শুক্রবার, ২৯ মে, ২০০৯

king khan shakib



shakib khan news...............

তাকে এখন ঢালিউডের কিং খান বলা হয়। ঢালিউডের সর্বকালের সর্বাধিক পারিশ্রমিক প্রাপ্ত তারকা তিনি। আসন্ন ঈদে তার অভিনীত ৫টি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। দেশের ৬00শ’ হলে ছবিগুলো চলবে। বাংলাদেশের এই সুপারস্টার শাকিব খান গ্লিটজ এর মুখোমুখি হয়েছেন সমপ্রতি। তার সাথে কথা বলে লিখেছেন arman khan।

নাম তার মাসুদ রানা। নামের প্রভাবেই কী না কে জানে, ক্লাস নাইনে থাকতে মার্শাল আর্টের ভক্ত হয়ে পরে ছেলেটি। নারায়ণগঞ্জে বাড়ির পাশে কেল্লার মাঠে মার্শাল আর্টে ভর্তিও হয়ে যায়। সরকারি চাকুরে বাবা মায়ের একমাত্র আদুরে সন্তানের চলে স্বপ্নের মত যাত্রা। কিন্তু এসএসসির পর কিছু বন্ধুকে ভালো নাচতে দেখে নিজেও উৎসাহী হন নাচে। ভাগ্যদেবী তখন থেকেই যেন হাসতে শুরু করেন। খুঁজতে খুঁজতে নাচের ক্লাস। শিক্ষক আজিজ রেজা। তার আদর স্নেহ। একদিন এফডিসি। গেট থেকে ঝর্ণা স্পট পর্যন্ত যেতেই একজন আলোকচিত্রী বলেন, আপনি ফিল্ম করবেন? আপনার কিছু ছবি তুলি। ছবি তোলা হয়। এরই মাঝে সুদর্শন তরুণটির দিকে নজর পড়ে একজন পরিচালকের।

এমনি করেই ঢালিউডের বর্তমান সুপারস্টার শাকিব খানের চলচ্চিত্র জীবনের বীজ বপন হয়ে যায়। তখনকার মাসুদ রানা আজকের শাকিব খান-এ কুহক কাটতে আর সময় লাগার কথা নয়।
আবুল খায়ের বুলবুলের পরিচালনায় শাকিবের প্রথম ছবি ‘সবাইতো সুখি হতে চায়’। এ ছবির শুটিং শেষ না হতেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের পরিচাললক প্রযোজকদের মাঝে। সবাই বলাবলি করে, ছেলেটি ভালো ফাইট করে। নাচে দুর্দান্ত, দেখতে সুন্দর আর দেখিয়ে দিলো ভালো অভিনয় করে। এটা ১৯৯৯ সালের কথা।

বারী স্টুডিওতে ওই ছবির গান দেখে নতুন নায়ক খুঁজতে থাকা এক প্রযোজককে শাকিবের সঙ্গে কথা বলেন। আলাপ ফলপ্রসু হয়। সোহানুর রহমান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবিতে দেখা দেন শাকিব, বিপরীতে ইরিন জামান। ৫০০০ টাকা সাইনিং মানি পেয়েছিলেন নবাগত তারকা। সে টাকা চলে গিয়েছিলো বন্ধু বান্ধবদের পেছনে। তাতেও খুশি। এ তো অনেক টাকা।

প্রায় এক দশকের ব্যবধানে পারিশ্রমিকের ব্যবধানটাও বেড়েছে অনেক, ২৫ লক্ষ টাকা। এ প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, “আমিতো জোর করে নিচ্ছি না। আমার ছবি ব্যবসা করছে। প্রযোজক লাভ করছেন। আমি আমার প্রাপ্য বুঝে নিচ্ছি।” বিষয়টি ঢালিউডে ভারসাম্যহীনতা তৈরী করবে কি না প্রশ্নে মৃদু হেসে শাকিব বলেন, “আমি তো মনে করি এটি একটি মান তৈরীতে সাহায্য করবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী কলকাতার দিকে তাকালে দেখবেন বুম্বা [প্রোসেনজিৎ] এখন কত নিচ্ছে? আগে কত নিত?”

প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে সিনেমার বর্তমান অন্যান্য নায়ক নায়িকাদের সম্পর্কে বলতে অনুরোধ করলে শাকিব বলেন, “আমি আসলে নিজের মান উন্নয়নে সচেষ্ট। তাই অন্যদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে আগ্রহী নই।” ঝানু কূটনীতিকের মতো তিনি প্রসঙ্গটির পরিসমাপ্তি টানেন এই বলে যে, “প্রত্যেকেই যার যার মতো করে ভালো করছে।”

কথোপকথনে চলে আসে জুটি প্রথা। রাজ্জাক-কবরী থেকে শুরু করে সালমান- শাবনূর অব্দি এদেশে জুটির প্রতি দর্শকদের একটা দূর্বলতা ছিল বরাবর। এ প্রসঙ্গে একটু ভেবে শাকিব বলেন, “এখন আর দর্শক সেভাবে জুটি চায় বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া নির্দিষ্ট জুটি প্রথাতে আমি বিশ্বাসও করি না।” এ পর্যন্ত শাকিব অভিনীত ছবিগুলোয় তার সঙ্গে সবেচেয়ে বেশি জুটি বেঁধেছেন অপু বিশ্বাস।

টেলিভিশন থেকে সিনেমায় আসা নতুন নায়কদের প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, “আসা উচিত। অনেক নায়ক দরকার। অনেক নায়িকা দরকার। সে টেলিভিশন থেকে হোক আর মঞ্চ। একা শাকিব কত কাজ করবে। যার যোগ্যতা থাকবে সে টিকবে নতুবা ঝরে যাবে। এই তো মূল সত্য।”

একই কারণে এফডিসি আয়োজিত ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’ কার্যক্রম প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, “এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। বিষয়টিতে এফডিসির আরো যত্নবান হওয়া উচিত।”

সিনিয়র অভিনেতা অভিনেত্রীদের চলচ্চিত্রে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে শাকিব নম্র স্বরে বলেন, “এটি আরও আগেই প্রয়োজন ছিলো। অভিমান করে দূরে সরে থাকা সুবিবেচনা নয়। এতে মন্দরাই উৎসাহিত হয়। আমার জানা মতে আমি কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি কিংবা সময় নিয়ে ভোগাইনি। তারা চলচ্চিত্রের অভিভাবক। আমাদের নিয়ে বলা তাদের দায়িত্ব।”

দেশের বাইরে চলচ্চিত্রের প্রসার প্রসঙ্গে নায়কের অভিমত, “তখনই দেশের বাইরে আমাদের চলচ্চিত্র ছড়িয়ে পড়বে যখন টেকনিক্যালি আমরা উন্নত হবো। আমরা এখনও ৩৫ মিলিমিটারে শ্যুট করি। অথচ পৃথিবী জুড়ে এখন কাজ চলছে ৭০ মিলিমিটারে। সিনেমাস্কোপ, ডলবি ডিজিটাল ইত্যাদি। আমাদের এসব পরিকাঠামোগত উন্নয়ন না করলে কোন কিছু সম্ভব না। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সরকারী পদক্ষেপের।”

চলচ্চিত্রের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা প্রসঙ্গে শাকিবের চাঁছাছোলা উচ্চারণ, “আমাদের এখানে পুনে কিংবা এনএসডির মতো প্রতিষ্ঠানতো নেই। পাশাপাশি, জোর গলায়ই বলব, প্রায় ৫০% পরিচালকই সামপ্রতিক দুনিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না। আর যারা ভালো কাজ করেন তারা টেকনিক্যাল সাপোর্ট পাচ্ছেন না।” আরেকটি বিষয়ের দিকেও দৃষ্টিপাত করলেন তারকা, “ আর হ্যা, আমরা এখানে কাউকে যথার্থ মূল্যায়ন করি না। সম্মান করি না। অন্যকে সম্মানের শিক্ষা যতদিন না আমাদের মাঝে আসবে ততদিন অন্য কোন শিক্ষা কাজে আসবে না বলে আমি মনে করি।”

শাকিব শুধু রুপালী পর্দার ঝলমলে জগতের বাসিন্দাই নন। তিনি একজন সাধারন মানুষও। দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করবেন কি না এমন প্রশ্নে শাকিব বলেন, “কেন করব না? নায়ক ঠিক আছে, কিন্তু আমিতো দেশের একজন নাগরিক। তবে এ মুহূর্তে শুধু বলব, আরও অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার বাকী আছে। খুব ভালো সময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে না। যে স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল তার একটা ছন্দপতন হয়তো অপেক্ষা করছে। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি যে করেই হোক সরকারের কমানো উচিত।” সম্প্রতি রাজাকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনাটি চলে আসে আলোচনায়। এ প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, “এটি খুবই ন্যাক্কার জনক ঘটনা। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাস্তি কামনা করি।” শিল্পী সমিতির উচ্চতর দায়িত্বে শাকিব আগ্রহী কি না জানতে চাইলে বলেন, “এ মুহূর্তে নয়। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে।”

আলোচনায় প্রেম-বিয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। শাকিব হাসতে হাসতে বলেন, “প্রেমের সময় কোথায়? আর মাথায় টোপর হয়তো আগামী বছরই হবে। যা ঘটবে সব পারিবারিক পছন্দেই ঘটবে।” জোর গুজব, ঢালিউডের এক নায়িকাকেই বিয়ে করবেন শাকিব। মুশকিল হলো, পাত্রী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। ভিন্ন ধর্ম কি পছন্দের ক্ষেত্রে কখনও বাধা হবে এমন বেমক্কা প্রশ্নে কিছুটা সময় নিয়ে সতর্ক ভঙ্গীতে শাকিব বলেন, “এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আপাতত নেই।
এবারের ঈদে শাকিব
গত কয়েক ঈদের চলচ্চিত্র মানে শাকিব। এবারের ঈদে তার ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে। সর্বমোট ৫টি ছবি মুক্তি পাচ্ছে তার এবার ঈদে। ছবিগুলো হলো ‘এক টাকার বউ’, ‘আমাদের ছোট সাহেব’, ‘হৃদয় আমার নাম’, ‘যদি বউ সাজোগো’, ‘মনে প্রানে আছো তুমি’। অধিকাংশ ছবিতে তার নায়িকা অপু বিশ্বাস।

এক ঈদে এতো ছবি প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, “আমার করার কি আছে। সবাই চায় আমাকে পুঁজি করে ব্যবসা করতে। আমি দুটি ছবির বেশী করার পক্ষে না। তবে আমার বিশ্বাস এবার সবগুলো ছবিই সাফল্য পাবে।”

এ মুহূর্তে ৪০টির মতো ছবির কাজ করছেন শাকিব খান। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘চেহারা’, এফ আই মানিকের ‘আমার ভাই আমার বোন’, শাহীন সুমনের ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’, সোহানুর রহমান সোহানের ‘ভালোবাসা তোমার আমার’, শাফি ইকবালের ‘প্রেম কয়েদী’। সবগুলোই বিগবাজেটের ছবি। “ছবিগুলো আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা আমূল বদলে দেবে” এই বিশ্বাস শাকিব খানের।